কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০২:৪৯ PM
কন্টেন্ট: পাতা
শিবালয় থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন গত কয়েক বছরে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই থানার চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন হলেও তা মোকাবিলায় তারা মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা খাতে শিবালয় থানার প্রধান অর্জনসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
মাদক নির্মূল: শিবালয় থানা পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
নৌ-পথে নজরদারি: যমুনা ও পদ্মা নদীর মোহনা হওয়ায় এই পথ দিয়ে পণ্য চোরাচালান রোধে নৌ-পুলিশের সহায়তায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাটুরিয়া ঘাটের যানজট নিরসন: পাটুরিয়া ফেরিঘাট দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঘাট। বিশেষ করে ঈদ বা ছুটির সময়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে ও থানা পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টা একটি বড় অর্জন।
দালাল চক্র নির্মূল: ঘাটে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের হয়রানি বন্ধে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা: থানার প্রতিটি ইউনিয়নে 'বিট পুলিশিং' কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো সমস্যার জন্য থানায় আসতে হচ্ছে না; পুলিশই জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।
জনসচেতনতা: ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ এবং সাইবার অপরাধ রোধে স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা এই থানার একটি ধারাবাহিক সাফল্য।
CCTV মনিটরিং: গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার এবং পাটুরিয়া ঘাট এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এতে অপরাধী শনাক্তকরণ এবং অপরাধ প্রতিরোধ অনেক সহজ হয়েছে।
দ্রুত সেবা (৯৯৯): জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে আসা কলগুলোতে দ্রুত সাড়া দিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার এবং তাৎক্ষণিক আইনি সহায়তা প্রদানে শিবালয় থানা প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।
জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ: সরকারের নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ এবং জাটকা নিধন রোধে নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই থানা সফলতার পরিচয় দিচ্ছে।
শিবালয় একটি কৃষিপ্রধান এবং চর এলাকা হওয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের আশঙ্কা থাকে। থানা পুলিশের কার্যকর মধ্যস্থতা এবং আইনি পরামর্শের ফলে অনেক বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
সামগ্রিক মূল্যায়ন: অপরাধ দমনের পাশাপাশি "পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ" এই স্লোগানকে ধারণ করে শিবালয় থানা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।